• হোম > আন্তর্জাতিক > উত্তর কোরিয়ায় লবণ পানি দিয়ে করোনা মোকাবিলার চেষ্টা কিমের

উত্তর কোরিয়ায় লবণ পানি দিয়ে করোনা মোকাবিলার চেষ্টা কিমের

  • শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১১:১১
  • ৪৭৭

---

উত্তর কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। তবে করোনার টিকা বা কার্যকরী অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ছাড়াই এই সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে দেশটি। বিদেশি চিকিৎসা-সহায়তা না নিয়ে সব রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সনাতনী চিকিৎসা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া এতোদিন দাবি করে আসছিল যে তাদের দেশে কেউ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়নি। তবে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো দেশটি করোনা সংক্রমণের কথা স্বীকার করে।

এরই মধ্যে দেশটিতে ২০ লাখ মানুষের জ্বরের লক্ষণ দেখা গেছে এবং এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৬৩ জন।

বর্তমানে দেশটি কিছু সনাতনী চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে -

গরম পানীয়

যারা গুরুতর অসুস্থ নয়, তাদের আদা অথবা হানিসাকল (এক ধরণের ঔষধি গুণসম্পন্ন পাতা ও ফুল) চা পান করা এবং ইউলো পাতার পানি পান করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের পত্রিকা রডং সিমনান। এ ধরনের গরম পানীয় গলা ব্যথা এবং কফের মতো করোনাভাইরাসের হালকা লক্ষণ থেকে আরাম দিতে পারে। এছাড়া শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে গেলে সেটির অভাবও পূরণ হয়। এছাড়া আদা এবং ইউলো পাতা শরীরের প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু এগুলো করোনাভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা নয়।

লবণ পানি

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সম্প্রতি এক দম্পতির সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা সকাল-বিকেল লবণ পানি দিয়ে গার্গল করার পরামর্শ দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এক হাজার টন লবণ পাঠানো হয়েছে। কোনো কোনো গবেষণায় বলা হয়েছে, লবণ পানি দিয়ে গার্গল করা সাধারণ ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা লাগা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তবে এটি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থামাতে পারে এই বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাউথওয়াশ করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে পারে। তবে মানুষের শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হলে, সেটি করতে পারে কি না - সে সম্পর্কে কোনো প্রমাণ নেই।

পেইন কিলার ও অ্যান্টিবায়োটিক

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পরামর্শ দিচ্ছে, আইবুপ্রোফেন-এর মতো ব্যথানাশক ঔষধ এবং অ্যামোক্সিসিলিন-এর মতো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার জন্য। আইবুপ্রোফেন শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং মাথাব্যথা ও গলাব্যথার উপশম দিতে পারে। কিন্তু এসব ওষুধ সেবনে ভাইরাস যাবে না। অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের জন্য, ভাইরাসের জন্য নয়। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক করোনাভাইরাস-সহ অন্যান্য ভাইরাসের বিস্তার কিছুটা থামাতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেটির প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

গত বছর বিভিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়াকে করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।


This page has been printed from Daily Jubokantho - https://www.jubokantho.com/118153 ,   Print Date & Time: Saturday, 30 August 2025, 12:09:03 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2025 SAASCO Group