• হোম > আন্তর্জাতিক > মাংকিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে,যুক্তরাজ্যে

মাংকিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে,যুক্তরাজ্যে

  • মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২, ১১:০৯
  • ৪৭১

মাংকিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে,যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে সোমবার নতুন করে আরও ৭৭ জনের মাংকিপক্স শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩০২ জনে দাঁড়িয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) জানিয়েছে, নতুন করে শনাক্ত হওয়া ৭৭ জনের মধ্যে ৭৩ জনই ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। এছাড়া স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে দুই জন করে চার জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

ইউকেএইচএসএ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫ জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে নিশ্চিতভাবে মাংকিপক্ষের আক্রান্তের সংখ্যা ৩০২। ইংল্যান্ডে ২৮৭, স্কটল্যান্ডে ১০, উত্তর আয়ারল্যান্ডে দুই এবং ওয়েলসে তিন জনের এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নাম শুনে বানরের কথা মনে হলেও আসছে মাংকিপক্স ভাইরাসটির সঙ্গে সম্পর্ক মূলত ইঁদুরের। ভাইরাসটির প্রাকৃতিক আবাসভূমি পশ্চিম আফ্রিকা এবং রেইনফরেস্টে বাস করে এমন কেউ হয়তো আক্রান্ত ইঁদুরের সংক্রমণে এলে অসুখটি ছড়ায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলে হাজারো মানুষকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে। তবে আফ্রিকার বাইরে ইউরোপ, আমেরিকায় কিছু দিন আগে পর্যন্তও এর প্রাদুর্ভাবের কথা শোনা যায়নি। এখন যাদের মাংকিপক্স হচ্ছে তারা কোথা থেকে সংক্রমিত হচ্ছে - তাও স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি আফ্রিকার বাইরে প্রথম মাংকিপক্সে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় যুক্তরাজ্যে। তালিকায় আছে স্পেন, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই সংক্রমণ অস্বাভাবিক। কারণ এগুলো এমন দেশে ঘটছে যেগুলো এ ভাইরাসটির স্বাভাবিক আবাসস্থল নয়।

মাংকিপক্স এমন একটি ভাইরাসবাহিত রোগ যা সাধারণত মৃদু অসুস্থতা সৃষ্টি করে। অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তিই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। এটি খুব সহজে একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের ছড়াতে পারে না। মনে করা হয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে এটি ছড়ানোর আশঙ্কা অপেক্ষাকৃত কম। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও টিকা নেই। তবে গুটিবসন্তের টিকা নিলে সেটি মাংকিপক্সের বিরুদ্ধেও ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দিয়ে থাকে। কারণ এই দুই ভাইরাসের অনেক মিল রয়েছে।

যৌন আচরণের সঙ্গে সম্পর্ক?

যারা মাংকিপক্সে সংক্রমিত হচ্ছেন তাদের অনেকেই সমকামী বা উভকামী তরুণ বা যুবক। আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই যৌনাঙ্গ এবং তার আশপাশের জায়গায় গুটি হতে দেখা যাচ্ছে। বিবিসির স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদদাতা জেমস গ্যালাহার বলছেন, এ ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়াতে অনেকটা সময়ের জন্য ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকার দরকার হয়।

জেমস গ্যালাহার বলেন, কেন সমকামী-উভকামী পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়। এটা কি শুধুই ঘটনাচক্রে এমন হচ্ছে, নাকি যৌন আচরণের ফলে ভাইরাসটি সহজে ছড়াতে পারছে তাও স্পষ্ট নয়। মাংকিপক্স সংক্রমিত কারও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে তা অন্যের দেহে ছড়াতে পারে। ফাটা বা কাটা চামড়া, চোখ, নাক বা মুখ দিয়ে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।


This page has been printed from Daily Jubokantho - https://www.jubokantho.com/119359 ,   Print Date & Time: Saturday, 31 January 2026, 09:00:46 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 SAASCO Group