• হোম > জাতীয় > বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা নেবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা নেবে যুক্তরাষ্ট্র

  • শুক্রবার, ২৬ আগস্ট ২০২২, ১৫:২৪
  • ৪৩০

 ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন অভিযানের পাঁচ বছর পূর্তিতে দেওয়া বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এ কথা জানান। তবে কবে থেকে রোহিঙ্গাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

বিভিন্ন সময় পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় দ্রুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বন্দোবস্ত করার জন্য বলে আসছে বাংলাদেশ। এমনকি পশ্চিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো দেশ পারলে যেন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়, সে আহ্বানও জানানো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সংকটের পাঁচ বছরের মাথায় প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানালেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্মিলিত মানবিক সহায়তার অত্যাবশ্যক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা বাংলাদেশসহ ওই অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে কাজ করছি। যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের জীবনকে নতুনভাবে গড়তে পারে।’

বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পাঁচ বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বর্বর অভিযান চালায়। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, ধর্ষণ, নির্যাতন এবং ব্যাপক মাত্রায় সহিংসতা চালিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করা হয়। ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশে আশ্রয় চায়। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে নৃশংসতা চালিয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল এবং যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে। এটার স্বীকৃতিও সেদিন দিয়েছিলেন তিনি।

ব্লিঙ্কেন বলেন, মিয়ানমারের এই সেনাবাহিনীই গত বছর ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে দেশটির জনগণকে দমন, নির্যাতন ও হত্যা অব্যাহত রেখেছে। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে নস্যাৎ করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এটা করছে। সম্প্রতি গণতন্ত্রপন্থী বিরোধী নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দেশটির জনগণের জীবনকে সংকটময় করে তোলার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত।

রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার সবার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা মাতৃভূমিতে নিরাপদে ফিরতে পারছে না; এ বিষয়টি অনুধাবন করে ২০১৭ সাল থেকে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার নানা উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন–পীড়নের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসে। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই রোহিঙ্গাদের স্বভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। আগে থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ।


This page has been printed from Daily Jubokantho - https://www.jubokantho.com/124548 ,   Print Date & Time: Saturday, 29 November 2025, 11:37:49 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2025 SAASCO Group