• হোম > বিশেষ নিউজ | শিক্ষাঙ্গন > শীতের চাঁদরে ঢেকে আছে ১৭৫ একর

শীতের চাঁদরে ঢেকে আছে ১৭৫ একর

  • সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:২০
  • ৭৫২

---

সাদিয়া আফরিন অমিন্তা :

উত্তরের শীতল বাতাস এবং ঘন কুয়াশা শীতের বার্তা দেয়। শীতের আগমনে অপরূপ সাজে সজ্জিত হওয়া শুরু করেছে ১৭৫ একর সবুজ ছায়ায় ঘেরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস।

ক্যাম্পাসে সকাল শুরু হয় অস্পষ্ট সূর্যের আলোয়, গাছের ফাঁকে ফাঁকে কুয়াশার অবস্থান দেখে মনে হয় শীত বুড়ি তার চাঁদরে ঢেকে রেখেছে পুরো ক্যাম্পাস। আনমনা ভাঙা বিভিন্ন নাম না জানা অতিথি পাখির কোলাহলে মেতে থাকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আঙিনা। এ যেন শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙানোর মিছিল। আলস্য বা কাঁচা ঘুম চোখে চাঁদর বা গরম পোশাক জরিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটে চলতে বাধ্য করে শ্রেণিকক্ষ।

বেলা গড়াতেই সূর্যের সোনালী আলোয় কুয়াশা বিদায় জানায়, ঝলমলে রোদে নড়েচড়ে ওঠে ১৭৫ একর। দিন ফুরিয়ে আসার সাথে সাথে পূনরায় শীত জেঁকে বসে ক্যাম্পাসের অলিতে-গলিতে।
রাস্তার পাশে বসা বিভিন্ন শীতের পিঠাপুলির ঘ্রাণে, যেন শীতে মিলে একাকার হয়ে যায়। বিকাল হলেই সবার মধ্যে পড়ে যায় পিঠা খাওয়ার ধুম। কখনো কখনো চলে প্রতিযোগিতা।

এছাড়াও শীতকে গ্রহন করতে আয়োজন করা হয় হরেক রকম আয়োজন। কখনো হীম উৎসব, কুহেলী আগমন বা পিঠা উৎসবে মেতে থাকে এই ১৭৫ একর। শীতের তীব্রতা কমাতে আগুন জ্বালিয়ে সবাই একত্রিত হয়ে গানের জোরায়ে ভাসে তরুণ তরুণী।

এসময় ঝড়ে যাওয়া পাতা বা নিষ্প্রাণ গাছগুলে পরিষ্কার করে, সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে হলগুলোতে বা রাস্তার পাশে বিভিন্ন ফুল, ফল এবং প্রয়োজনীয় গাছ লাগালোর হিড়িক পরে যায়।

১৭৫ একরের শীতের অনুভূতি জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সিন্থিয়া ছোয়া আনিকা জানান, হাড়ে কাঁপন ধরানো হিমেল বাতাসে ক্যাম্পাসের সবার গায়েই এখন শীতের গরম কাপড়। নৈসর্গিক পরিবেশে গড়ে ওঠা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে শীত আসে বাড়তি মুগ্ধতা নিয়ে।

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউমনা তার অনুভূতি জানাতে বলেন, “আমার কাছে ক্যাম্পাসে শীত মানে দল বেঁধে খেজুর রস খেতে যাওয়া, ক্লাস ফাঁকে ফুটবল মাঠে রোদ পোহাতে পোহাতে বন্ধু বান্ধব মিলে হাসি তামাশার সাথে আড্ডা, বিকেল হলে পাল্লা দিয়ে ভাপা পিঠা খাওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠা। সবশেষে এই ক্যাম্পাসের শীত আমার কাছে এক নতুন উন্মাদনা।”

অন্যদিকে শীত আসার পূর্বাভাস পেয়ে কিছু সংগঠন বা শিক্ষার্থীরা অনুদান তুলতে ব্যস্ত থাকে। উদ্দেশ্য তাদের শীতার্তদের সাহায্য করা। বঞ্চিতদের কনকনে শীতে উষ্ণ পোশাক তুলে দিয়ে তারা শীতকে বরন করে নেয়।

১৭৫ একরে শীত এক ভিন্ন সৌন্দর্যের সাথে হাজির হয়, অতিথি পাখি নিয়ে আসে আনন্দ উল্লাস আবার গাছের ঝড়া পাতা সৃষ্টি করে বিষাদ। সব মিলিয়ে আমার ক্যাম্পাসে শীত নকশিকাঁথার মতোই সুন্দর।

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম
শিক্ষাবর্ষ : ২০২০-২১
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


This page has been printed from Daily Jubokantho - https://www.jubokantho.com/133671 ,   Print Date & Time: Tuesday, 24 March 2026, 03:58:06 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 SAASCO Group